শুক্রবার ২ মে ২০২৫ - ১০:৫৬
ইমামের বৈশিষ্ট্য; “নৈতিক পরিপূর্ণতার সাথে সামাজিক ব্যবস্থাপনা এবং অলংকরণ”

ইমাম, যিনি সমাজের নেতা ও পথপ্রদর্শক, তিনি সকল প্রকার খারাপ ও নৈতিক দোষ থেকে মুক্ত থাকবেন এবং বরং সর্বোচ্চ স্তরের নৈতিক গুণাবলীতে ভূষিত হবেন। কারণ তিনি পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে তাঁর অনুসারীদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইমামের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও ইমামতের মৌলিক শর্তগুলির মধ্যে একটি হলো  
ইমামতের মৌলিক শর্ত ও ইমামের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে “সামাজিক ব্যবস্থাপনা ও অলংকরণের ক্ষেত্রে নৈতিক গুণাবলীতে সুসজ্জিত হওয়া” অন্যতম।

ইমামের সামাজিক ব্যবস্থাপনা

যেহেতু মানুষ একটি সামাজিক প্রাণী এবং সমাজ তার আত্মা, মন ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে, তাই তার সঠিক শিক্ষা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য উপযুক্ত সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এটি কেবল একটি ঐশ্বরিক হুকুমত  গঠনের মাধ্যমেই সম্ভব। তাই, ইমাম ও জনগণের নেতাকে সমাজের বিষয়াদি পরিচালনার দক্ষতা রাখতে হবে এবং কুরআনের শিক্ষা ও নববী সুন্নাহর আলোকে দক্ষ ব্যক্তিদের সহায়তায় একটি ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। 

ইমামের নৈতিক পূর্ণতা

ইমাম, যিনি সমাজের নেতা ও পথপ্রদর্শক, তিনি সকল প্রকার খারাপ ও নৈতিক দোষ থেকে মুক্ত থাকবেন এবং বরং সর্বোচ্চ স্তরের নৈতিক গুণাবলীতে ভূষিত হবেন। কারণ তিনি পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে তাঁর অনুসারীদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। 

ইমাম রেজা (আ.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন,
لِلْإِمَامِ عَلاَمَاتٌ یَکُونُ أَعْلَمَ اَلنَّاسِ وَ أَحْکَمَ اَلنَّاسِ وَ أَتْقَی اَلنَّاسِوَ أَحْلَمَ اَلنَّاسِ وَ أَشْجَعَ اَلنَّاسِ وَ أَسْخَی اَلنَّاسِ وَ أَعْبَدَ اَلنَّاسِ

“ইমামের কিছু নিদর্শন রয়েছে: তিনি হবেন লোকদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী, সবচেয়ে বিচক্ষণ, সবচেয়ে ধার্মিক ও তাকওয়াশীল, সবচেয়ে ধৈর্য ও সহনশীল, সবচেয়ে সাহসী, সবচেয়ে দানশীল এবং সবচেয়ে ইবাদতকারী।”

(আল-খিসাল, খণ্ড- ২, পৃষ্ঠা- ৫২৭) 

এছাড়াও, ইমাম (আ.) নবী (সা.)-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মানুষের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই, তাঁকে অবশ্যই অন্যদের আগে এবং অন্যদের চেয়ে বেশি ঐশ্বরিক নৈতিকতায় সুসজ্জিত হতে হবে। 

ইমাম আলী (আ.) এ সম্পর্কে বলেছেন,
مَنْ نَصَبَ نَفْسَهُ لِلنَّاسِ إِمَاماً، [فَعَلَیْهِ أَنْ یَبْدَأَ] فَلْیَبْدَأْ بِتَعْلِیمِ نَفْسِهِ قَبْلَ تَعْلِیمِ غَیْرِهِ؛ وَ لْیَکُنْ تَأْدِیبُهُ بِسِیرَتِهِ قَبْلَ تَأْدِیبِهِ بِلِسَانِهِ

“যে ব্যক্তি [আল্লাহর নির্দেশে] নিজেকে জনগণের ইমাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, তার কর্তব্য হলো অন্যদের শিক্ষাদানের পূর্বে নিজেকে শিক্ষিত করা। তাকে অবশ্যই নিজের কর্ম ও নৈতিকতার মাধ্যমে অন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, বক্তৃতা ও কথার মাধ্যমে নয়।”

(নাহজুল বালাগা, হিকমত- ৭৩) 

চলবে...

গ্রন্থনা: “নেগিনে অফারিনেশ” বই থেকে, সামান্য পরিমার্জিত

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha